৭ কারণে ঘুম আসে না চোখে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর এক গানে লেখেছিলেন, ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর, নম নম নম নম নম নম।’ ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি। আর সেই ঘুমই যদি আপনার চোখ থেকে উধাও হয়ে যায়, তাহলে মনোহরের দেখাও আপনি পাবেন না।

এক গবেষণায় দেখা গেছে আজকের দিনে বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ যেসব সমস্যায় ভোগে তার মধ্যে ঘুমজনিত সমস্যা অন্যতম। পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে একজন মানুষের শরীরে সবচেয়ে বড় আঘাতটা লাগে মস্তিষ্কে। কেবলমাত্র মস্তিষ্কে ছাড়াও শরীরে আরো অনেক সমস্যার জন্ম দেয় অপর্যাপ্ত ঘুম। আর এসব সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে অনেকে অনেক পথ বেছে নেন। যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তেমন একটা কাজে আসে না।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্লিপ হেলথ ফাউন্ডেশনের মতে, অস্ট্রেলিয়ার এক তৃতীয়াংশ মানুষ ঘুমজনিত সমস্যা ভোগে। আর এ কারণে দেশটির মানুষের শরীর ও মনে এর বিরুপ প্রভাব পড়ে। এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেড থ্রেটসের একদল গবেষক ঘুম না হওয়া ও মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার সাতটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

১. শোবার ঘরের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা

ঘুম বিশেষজ্ঞরা ঘুমের জন্য শোবার ঘরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শ দেন। এ জন্য সিলিং ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে। বেড থ্রেটসের গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘুমের জন্য শোবার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে। এই চক্রটি আমাদের ঘুমের সময়ও চলতে থাকে। আপনার ঘরের তাপমাত্রা যদি অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম থাকে তবে তা আপনার ঠিকমত ঘুম হবে না কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাবে। তাই শোবার ঘরটি অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা না হওয়া উচিত। এসি ও ফ্যান একসঙ্গে ব্যবহার না করে যেকোন একটি ব্যবহার করুন। বাতাস চলাচলের জন্য একটা জানালা একটু হলেও খোলা রাখুন। গবেষকরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ঘরের তাপমাত্রা যেন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম কিংবা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।

২. অতিরিক্ত মদ্যপান

অনেকেরই নিয়মিত মদ পানের অভ্যাস থাকতে পারে। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন অতিরিক্ত মদ পানের কারণে আপনার পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, আপনি ঘুমাতে যাওয়ার আগে মদের গ্লাসে চুমুক দিলে আপনি রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারবেন না। সুতরাং নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য এই অভ্যাসটি আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব বাদ দিতে হবে।

৩. মানসিক চাপ

কথায় আছে কখনোই অফিস বাসায় নিয়ে যেতে নেই। এই কাজটি করলে নিশ্চিত আপনি রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারবেন না। এটা অনেকটাই স্বাভাবিক যে, অফিসে আপনি অনেক কাজের চাপে থাকেন। সে কারণে আপনার ওপর মানসিক চাপও বাড়ে। তাই বাসায় ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটাতে চাইলে অবশ্যই অফিস কিংবা অন্যান্য মানসিক চাপমুক্ত থেকে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করুন।

৪. ইনসোমনিয়া

ইনসোমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা এক ধরনের অসুখ। এটি আপনার ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন কম সরবারাহ হওয়ার কারণে আপনার মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এবং পড়ে আবার সহজে ঘুম আসে না। এমন সমস্যা হলে আপনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৫. বদহজম

বদহজম ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে বড় বাধা। আপনি ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করে নিন। আর যথা সম্ভব আপনি খাবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। সব ঘুম গবেষক এ ব্যাপারে একমত যে, রাতে অতিরিক্ত আহার আপনার ঘুমে বাঁধা সৃষ্টি করবে। খাওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত পিরামিড নিয়ম মেনে চলার জন্য জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পিরামিড নিয়মে আপনি সকালে বেশি খেতে পারেন, দুপুরে তার চেয়ে কম ও রাতে দুপুরের চেয়েও কম খাবেন।

৬. শোবার ঘরে অতিরিক্ত আলো

আপনি হয়তো পরিমাণ মতই খাবার খাচ্ছেন ও মদ পানও ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু তাও ঘুমাতে পারছেন না। তাহলে আপনি নিশ্চই শোবার ঘরের আলোর ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন। গবেষকরা বলছেন, অন্ধকার ঘুমের জন্য আদর্শ পরিবেশ। তাই ভালো ঘুমের জন্য আপনার শোবার ঘরের সব আলো নিভিয়ে নিন।

৭. রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যাবহার

মোবাইল ছাড়া আমাদের সময়ই কাটে না। আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন মোবাইলের পাল্লায় পড়ে আপনার মূল্যবান ঘুম আপনি হারিয়ে ফেলছেন? গবেষকগণ বলছেন, রাতে যত সম্ভব মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এই অভ্যাসটি বাদ দিতে পারলে আপনি রাতে নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের দেখা পাবেন।