১০ গ্রামে নেই রাস্তা, স্কুল ও বিদ্যুৎ

পার্বত্য খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সদরের কবাখালী ইউনিয়নের একটি গ্রাম তারবুনিয়া। উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি হলেও স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ গ্রামে। শুধু তারাবুনিয়া নয়, আশপাশের ডুলুছড়া, হাজাছড়া, পাকুজ্জ্যাছগা, দক্ষিণ তারাবুনিয়াসহ অন্তত দশ গ্রামের চিত্র এ রকমই। বিদ্যুৎবিহীন এসব গ্রামে চলাচলের জন্য নেই কোনো কাঁচা-পাকা রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

সম্প্রতি দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি পিচঢালা পাকা সড়ক থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরের গ্রাম তারাবুনিয়ায় গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কি.মি দূরে হলেও পুরো এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিহীন। আশেপাশে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় অন্তত ৮-৯ কি.মি দূরে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয় দশ গ্রামের শিক্ষার্থীদের। কুয়ার পানিতেই তৃষ্ণা মেটাতে হয় লোকজনকে। চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণের আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। রাস্তা না থাকায় গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে কাঁধে করে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হয়।

Khagrachari-Village-2

যাতায়াতের জন্য কোনো ধরনের কাঁচা বা পাকা রাস্তা নেই। তাই গ্রামবাসীকে জমির আইল বা পাহাড়ি পথ ধরে চলাচল করতে হয়। ফলে বর্ষাকালে দুর্ভোগ বেড়ে দ্বিগুণ হয়। শহরের কাছাকাছি হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় এ যেন বাতির নিচেরই অন্ধকার। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল বিতরণ করলেও এখানকার কেউ তা পায়নি।

তারাবুনিয়া গ্রামের কারবারি মায়াজয় চাকমা অভিযোগ করেন, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ কিছুই নেই। উপজেলা সদরের কাছাকাছি বসবাস করেও তারা অবহেলিত। কোনো কিছুর জন্য আবেদন করেও লাভ হয়নি। কোথাও কোনো নলকূপ নেই। ঝিরি বা ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাবার পানির সঙ্কট তীব্র হয়। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রায়ই স্থানীয়দের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে হয়। এ যেন চারদিকে শুধু নেই, আর নেই।

Khagrachari-Village-2

শিশুদের হেঁটে ৮-৯ কি.মি দূরের কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। প্রতিদিন এক ঘণ্টা হেঁটে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় জানিয়ে শিক্ষার্থী পার্কিনা চাকমা জানায়, রাস্তাঘাট না থাকায় বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

কবাখালি ইউয়িন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘এসব পাহাড়ি পল্লীর সমস্যা অনেক। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে চলাচলের রাস্তার জন্য স্থানীয় এমপির সুপারিশসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করলেও কোনো লাভ হয়নি। নলকূপ না থাকায় গ্রামবাসীরা সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নাজুক। এ বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে।

দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মো. কাশেম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় এডিবির বরাদ্দের আওতায় উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়েছে। অবহেলিত পাহাড়ি পল্লীর সড়ক নির্মাণসহ নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হবে।