মুশফিক হচ্ছে বাংলাদেশের ‘৩৬০ ডিগ্রি’

ক্রিকেট দুনিয়ায় ‘৩৬০ ডিগ্রির ব্যাটসম্যান’ বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খুলনা টাইগার্স কোচ জেমস ফস্টার আবিষ্কার করলেন নতুন ৩৬০ ডিগ্রির ব্যাটসম্যান! তাঁর চোখে বাংলাদেশের ৩৬০ ডিগ্রি হলেন মুশফিকুর রহিম।

আজ মঙ্গলবার রাজশাহীর বিপক্ষে মুশফিকের ব্যাটিং দেখে এমনটাই মনে হয়েছে ফস্টারের। আজ রাজশাহীর দেওয়া ১৯০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শেষে কিছুটা চাপে পড়ে খুলনা। ইনিংসের শেষ ওভার! সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে জয় পেতে খুলনা টাইগার্সের প্রয়োজন ৪ রান। ওভারের প্রথম বলে এক রান নেন মুশফিক। পরের বলেও এক রান নেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। ওভারের তৃতীয় বলে দলের জয় ও নিজের সেঞ্চুরি ছোঁয়ার উদ্দেশ্য রবি বোপারার বলে ছক্কা হাঁকাতে যান বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু টাইমিং ঠিক হয়নি। ব্যাটের মাঝখানে লেগে বল উপরে উঠে যায়, সেটা তালুবন্দী করে খুলনা অধিনায়ককে সাজঘরের পথ দেখান শোয়েব মালিক। ইনিংসের শুরুতে ধাক্কা খাওয়া দলকে টেনে নিয়েও ইনিংস শেষ করতে পারলেন না মুশফিক। ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছোঁয়ার হাতছানিও হাতছাড়া করলেন। তবে আজ মঙ্গলবার মুশফিক যেটা করলেন সেটা মনে রাখবে বিপিএল। শুরুতেই চাপে পড়ে যাওয়া দলকে একাই টেনে নিয়ে গেলেন। খেললেন ৯৬ রানের ইনিংস। মাত্র ৫১ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কা দিয়ে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস। এছাড়া চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এটি। মুশফিক যে ৯টি চার মেরেছেন সবগুলোই পয়েন্ট থেকে ব্যাটসম্যানের পেছন দিক দিয়ে ঘুরে মিড উইকেট অঞ্চলের মধ্যে। ছক্কাগুলো সবই লেগ সাইডে। রানও মাঠের চারপাশে। এমন ব্যাটিংয়ের মাঝেই আরেক ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান খুঁজে বের করলেন খুলনা কোচ। ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘মুশি খুবই উঁচুমানের খেলোয়াড়। পরিস্থিতি এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। তার হাতে অনেক শট আছে। খেলতে পারে উইকেটের চারপাশেই। সে ৩৬০ ডিগ্রি খেলোয়াড়। গত কয়েক বছর খুলনা টাইটানসে যখন ছিলাম তখন তাকে বল করার পরিকল্পনা করা ছিল ভীষণ অসুবিধার। শক্তি রাখার পাশাপাশি টাচেও খেলতে পারে। সে একটা পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।’

নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ আরো বলেন, ‘আমি বলেছি সে ৩৬০ ডিগ্রির খেলোয়াড়। মাঠের চারপাশেই খেলতে পারে। মিড উইকেট থেকে মিড অফ। সোজা খেলা কঠিন হলে স্কুপ করে। আবার একই বলে স্ট্রেটেও খেলতে পারে। এটা শুধু ভাগ্যের জোরে হয় না। অনেক পরিশ্রম ও দক্ষতা লাগে।’ এছাড়া ১৯০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করার পুরো কীর্তিও মুশফিককে দিচ্ছেন খুলনা কোচ, ‘আজ আমাদের মুশি দারুণ খেলেছে। এটি ছিল আমার দেখা অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংস। বিশেষ করে রান তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যেই ২ উইকেট হারানো, সেখান থেকে সত্যিই অসাধারণ এক ইনিংস।’