বোয়ালখালীতে বন্যহাতির আক্রমণে তিনজন নিহত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় লোকালয়ে চলে আসা বন্যহাতির পৃথক আক্রমণে তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। হাতির পালের আক্রমণে লোকালয় ছাড়াও ঘরবাড়ি, ক্ষেত-খামার ও গরু-ছাগলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার কধুরখীল, চরণদ্বীপ ও  শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন চরণদ্বীপ ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দনগরের বাসিন্দা ও খরণদ্বীপ বিজান বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জাকের হোছাইন (৬৫), কদুরখীল ইউনিয়নের শরীফপাড়া এলাকার কৃষক আবু তাহের মিস্ত্রি (৬০) এবং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠপুরা এলাকার আমিরপাড়ার কৃষক আবদুল মাবুদ (৬০)।

কধুরখীল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল করিম জানান, সকালে চার-পাঁচটি হাতি কধুরখীল তৈয়্যবিয়া তাহেরীয়া সুলতান মোস্তফা কমপ্লেক্সের পূর্বপাশে শরীফপাড়া এলাকায় শস্যক্ষেতে কাজ করার সময় আবু তাহের মিস্ত্রি হাতির আক্রমণের শিকার হন। ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। নিহতের বাড়ি শরীফপাড়ায়।

অন্যদিকে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দনগরে হাতির আক্রমণে মারা গেছেন সাবেক প্রধান শিক্ষক জাকের হোছাইন। তাঁর বাড়ি পূর্ব সৈয়দনগরে।

নিহতের মেয়ে ফাহমিনা আফরোজ তারিন জানান, সকালে চাঁন্দারহাট জামে মসজিদের পাশে হাতির পাল তাঁর বাবাকে (জাকের মাস্টার) আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হাতির পালটি পাহাড়ের দিকে যাওয়ার পথে শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের আমিরপাড়ার আবদুল মাবুদ নামে এক কৃষককে আক্রমণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাছান চৌধুরী বলেন, হাতির আক্রমণে আবদুল মাবুদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় আলী আহমদের ছেলে। তাঁর এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার জ্যেষ্ঠপুরা পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসে বাচ্চাসহ নয়টি হাতি। দিনভর হাতিগুলো পূর্ব কধুরখীল বায়তুল জামে মসজিদের সুপারি বাগানে অবস্থান নেয়। আজ সকালে দুভাগে বিভক্ত হয়ে তাণ্ডব চালায়। হাতির পালটির একটি অংশ কধুরখীল-চরণদ্বীপের দিকে যায়, অন্যদল খরণদ্বীপ হয়ে পাহাড়ের দিকে যায়। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বোয়ালখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, হাতির আক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে লোকালয়ে চলে আসা হাতির পালটি বিভক্ত হয়ে কধুরখীল, পোপাদিয়া ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপ এলাকায় অবস্থান করছে। এ অবস্থায় বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার অনুরোধ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার ভোর থেকে হাতির পালটিকে লোকালয়ে দেখা যায়। এর আগে জ্যেষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে হাতির পাল দেখা গেলেও পাহাড় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী গ্রামে লোকালয়ের ভেতর হাতি আসার ঘটনা এটিই প্রথম।

এদিকে কয়েক দিন আগে হাতির পালটি লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও কলাউজান ইউনিয়নের লোকালয়ে চলে এলে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সমন্বয়ে হাতির পালটিকে বনে ফেরানো হয়েছিল।