প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করা হয়েছে : গেইল ইস্যুতে বিসিবি সিইও

স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার আর এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত বড় তারকারা নেই এবার। আশা ছিল কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের রাজা ক্রিস গেইল আসবেন, মাঠ মাতাবেন। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাবেন। রানের ফলগুধারা বইবে তার ব্যাটে। গ্যালারি সরব হবে। আর বিপিএল জমেও উঠবে।

কিন্তু আজ (বুধবার) সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই বড় ধাক্কা! গেইল আসবেন তো বহু দূরে, এ ক্যারিবীয় উইলোবাজ নাকি জানেনই না তিনি বিপিএল খেলবেন। তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ হয়েছে। যা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরাল হয়ে গেছে।

গেইল যা বলেছেন, তাতে তিনি এবার বিগ ব্যাশও খেলবেন না। বিশ্রাম নিয়ে আগামী বছর মাঠে নামার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আগ্রহী। এটুকু পড়ে মনে হচ্ছে তাহলে বুঝি গেইল এবার বিপিএল খেলবেন না? এখন প্রশ্ন হলো গেইল যদি শেষ পর্যন্ত না খেলেন, তাহলে তাকে যারা প্লেয়ার্স ড্রাফটে দলে ভিড়িয়েছে তারা এখন কী করবে? সেই দলের কী হবে?

আরও একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি গেইলের সম্মতি না নিয়েই তাকে প্লেয়ার্স ড্রাফটে রাখা হয়েছে? দুপুরের পর থেকে ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড়। সবার একটাই প্রশ্ন, গেইল বলেছেন তিনি বিপিএল খেলার কথা জানেনই না। তাহলে তাকে প্লেয়ার্স ড্রাফটে রাখা হলো কোন নিয়মে? তার সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ না করেই কি এতবড় একটা কাজ সম্পাদন হলো?

এ সময়োচিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন। তিনি আজ দুপুরের পর বিসিবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে এ সম্পর্কে কথা বলেছেন। যার সারমর্ম হলো প্লেয়ার্স ড্রাফটে যখন গেইলের নাম রাখা হয়েছে তখন সেটা না জেনে, কোনরকম যোগাযোগ না করে রাখা হয়নি। একটা সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাকে নেয়া হয়েছে।

সবার জানা, গেইলের মানের কোন বিশ্বতারকা নিজ থেকে কোন আসরে অংশ নেয়ার আগে আয়োজক-ব্যবস্থাপক বা কোন দলের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত করেন না। সেটা হয় প্রক্রিয়া মেনে, এজেন্টের মাধ্যমে। কোনো কোনো বড় তারকার ব্যক্তিগত ম্যানেজারও যোগাযোগ রক্ষা করেন। তবে কন্টাক্ট হয় এজেন্টেদের মাধ্যমে।

কাজেই গেইলের এজেন্ট যে বা যারা, তারা হয়তো কোনো না কোনোভাবে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের সবুজ সঙ্কেত না পেয়ে গেইল কেন, কোন ক্রিকেটারকে প্লেয়ার্স ড্রাফটে রাখার সুযোগ নেই।

তাই তো বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের মুখে এমন কথা, ‘কোন নির্দিষ্ট প্লেয়ারের কথা বলবো না। আমি কথা বলবো প্রক্রিয়া নিয়ে। কোন ক্রিকেটারের নাম যখন আসে, তখন কোনো না কোনো সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসে। হয় প্লেয়ার না হয় তার এজেন্টের মাধ্যমে নাম আসে। যেমন এটা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়েছে। আমরা ব্যাপারটি শোনার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি প্রক্রিয়া মেনেই কাজটি করা হয়েছে।’

গেইলের কথায় বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বিস্মিত কি না? এমন প্রশ্নর জবাবে নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আসলে আমরা অবগত না যে কোন পরিস্থিতিতে কথাটা এসেছে। প্লেয়ারদের এজেন্ট যারা, তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। দলগুলোও সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা কথাও বলেছে। আশা করি একটি ইতিবাচক সমাধান হয়ে যাবে।’