ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আলাদা কর্মসূচি নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

কেবল সরকারি হিসাবেই চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এবার ভেঙেছে গত উনিশ বছরের সব রেকর্ড। তবু এখনো ডেঙ্গুর জন্য আলাদা কর্মসূচি হাতে না নিয়ে ম্যালেরিয়া ও বাহকবাহিত মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই চলছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত এবারের ঢুস খেয়ে হুঁশ ফেরা উচিত কর্তৃপক্ষের। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বলছে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন তারা।

১ জানুয়ারি ২০১৯ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন রোগী। সেদিন হয়তো কেউ আঁচ করতে পারেনি এবারের ভবিষ্যত।

জুনে এসে প্রায় দুই হাজারে। জুলাই মাসেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা দেশে। পরের মাসেই ৬৪ জেলাতেই শনাক্ত হয় ডেঙ্গু রোগী। সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজারের বেশি। সব রেকর্ড তছনছ আর মৃত্যুর সংখ্যা একশ’ ছাপিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে কমতে থাকে রোগীর সংখ্যা। নভেম্বরের শেষে এসে যা লাখ ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর এক লাখ বেশি। তারপর আমাদের ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে হবে। 

২০০০ সালে দেশে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে গত উনিশ বছরে কম ভোগায়নি এডিসবাহিত এ রোগ। তবু এখনো কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া কিংবা ফাইলেরিয়ার মতো ডেঙ্গু মোকাবিলায় আলাদা কর্মসূচি নিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেরি হলেও এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমদ বলেন, যদিও একটা কর্মসূচি সংঘঠিত করা যায় তাহলে ডেঙ্গু নিরাময় সহজ হবে। এটা সবজায় এ কর্মসূচি করতে হবে। 


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সীমাবদ্ধতার ছাপিয়ে আলাদা কর্মসূচি নিতে না পারলেও তা প্রভাব পড়বে না ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে।

অধ্যাপক আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, কর্মসূচি নেই জন্য আমরা কাজ করছি না। তা কিন্তু নয়। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সুফল পেতে বছর ব্যাপি সমানতালে কাজ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।