ইরানে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়, বিক্ষোভের ‘১০০ নেতা’ আটক

পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইরানে গত সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রায় ১০০ নেতাকে আটক করা হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খুঁজে খুঁজে এই নেতাদের আটক করেছে দেশটির শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড।  

এদিকে বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে রাখায় ইরানের যোগাযোগমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।   

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ১০৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অন্যান্য সূত্রের দাবি নিহতের সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে দাবি করেন বিক্ষোভে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মদদ রয়েছে বলে গত বুধবার দাবি করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ‘শত্রুর ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন ইসমাইলি গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এরই মধ্যে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ১০০ জন নেতাকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই মুখপাত্র এও বলেন, আরো ‘বিপুল সংখ্যক’ বিক্ষোভকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং খুব শিগগির তাদেরও আটক করা হবে।

ইরানে গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে তেলের বর্ধিত মূল্য কার্যকর করা হয়। হঠাৎ করেই পেট্রলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ মানুষ। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এরই মধ্যে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে, যাতে অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এ বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

ইরান সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রল ১৫ হাজার রিয়াল দরে প্রতি মাসে মোট ৬০ লিটার পেট্রল কিনতে পারবেন মোটরযান মালিকরা। এর আগে এক ব্যক্তি প্রতি লিটার ১০ হাজার রিয়াল দরে মোট ২৫০ লিটার পেট্রল কিনতে পারতেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পেট্রলে ভর্তুকি বাদ দিয়ে সরকার যে পরিমাণ অর্থ আয় করবে, তা দিয়ে নিম্ন আয়ের দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানিয়েছেন, ৭৫ শতাংশ ইরানি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে। পেট্রলে ভর্তুকি বাদ দেওয়ায় সরকার যে আয় করবে, তা ইরানের কোষাগারে জমা না রেখে জনগণকে সহায়তা করা হবে।